ইমোশনাল বার্নআউট এবং অলসতা প্রথম দর্শনে একই রকম মনে হতে পারে, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই কম উদ্যম এবং কাজ এড়িয়ে চলা দেখা যায়, কিন্তু এদের মনোবৈজ্ঞানিক উৎস সম্পূর্ণ আলাদা।
🔹মুল সংঙ্গাঃ
বার্নআউট (Burnout) হলো দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষেত্র বা ব্যক্তিগত চাপের ফলে সৃষ্ট তীব্র শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় ক্লান্তির একটি অবস্থা। এটি মূলত কাজের প্রতি অনীহা, নেতিবাচকতা এবং কার্যক্ষমতা হ্রাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে পেশাগত জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে।
অলসতা (Laziness) হলো কাজ করার ক্ষমতা বা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পরিশ্রম বা কার্যকলাপে অনীহা, অনিচ্ছা বা উদ্যমহীনতার মানসিক অবস্থা।একে কর্মবিমুখতা বা শ্রমবিমুখতাও বলা হয় । এটি এমন একটি প্রবণতা যা মানুষকে কর্মঠ না হয়ে অকর্মণ্য বা মন্থর করে তোলে।
🔹বার্নআউট এবং অলসতার প্রধান পার্থক্যঃ
১.কার্যক্ষমতা: বার্নআউটে মানুষ কাজ করতে চাইলেও পারে না, আর অলসতায় কাজটি সে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যায় ।
২.আগ্রহ: বার্নআউটের শিকার ব্যক্তি প্রিয় কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন । অলস ব্যক্তি সাধারণত বিরক্তিকর কাজ এড়িয়ে গেলেও পছন্দের কাজ ঠিকই করেন ।
৩.বিশ্রামের প্রভাব: বার্নআউটে ছুটি বা বিশ্রাম নিলেও ক্লান্তি ও কাজের প্রতি অনীহা দূর হয় না। অলসতা সাধারণত কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেই কেটে যায় ।
৪.মানসিক অবস্থা: বার্নআউট হলো মানসিক ও শারীরিক অবসাদ, যেখানে হতাশা ও শূন্যতা কাজ করে। অলসতা হলো অনুপ্রেরণার অভাব।
🔹উত্তরণের উপায়ঃ
➡️বার্নআউটের ক্ষেত্রে-
১. নিজেকে অলসতার দোষী না করে অবস্থাটি স্বীকার করুন।
২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করুন এবং পরিবার বা বন্ধুদের সাথে আলোচনা করুন।
৩. দায়িত্বের পরিমাণ কমান এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন।
৪. উন্নতি না হলে মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন—এটি কোনো লজ্জার বিষয় নয়।
➡️অলসতার ক্ষেত্রেঃ একটি সামান্য কাজ দিয়ে শুরু করুন, যা ধীরে ধীরে উদ্যম বাড়াবে।
🔸সবচেয়ে বড় কথাঃ নিজের অবস্থা সঠিকভাবে চিহ্নিত করুন। বার্নআউটকে অলসতা মনে করে উপেক্ষা করলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। যদি চেষ্টা করেও কাজ সম্পাদন সম্ভব না হয়, তবে এটি বার্নআউটের লক্ষণ এবং চিকিৎসাযোগ্য।
জনস্বার্থে-
হাই-টেক মডার্ণ সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল
মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগের অনন্য চিকিৎসা কেন্দ্র
যেকোন তথ্যে ও সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ ও সেবা পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
হাই-টেক মডার্ণ সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল
শাখা-১:
সারা প্যালেস (পুরাতন সিনেমা হলের পাশে), আটি বাজার, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।০১৭১১-৬৬২৭০৯,
০১৭৩০-৩৩৩৭৮৯
শাখা-২:
১১৬, মনিপুরীপাড়া (১ নং গেইট), তেজগাঁও, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫.০১৬০২-২৬৮৪০৫,
০১৬০২-২৬৮৪০৬
অনলাইনে সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে এখানে ক্লিক করুন


